গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গণিত নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে, কিন্তু এর মূল কারণ হলো, গণিত আসলে কী, তা নিয়ে ভুল ধারণা। প্রায় এক শতাব্দী আগে জার্মান পদার্থবিদ ফেলিক্স আয়রব্যাচ গণিতের ভীতি এবং কীভাবে এটি কাটিয়ে ওঠা যায় নামক একটি বই লিখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, গণিত সমাজের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ভীতি কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।
আয়রব্যাচ শুধু একজন বিজ্ঞানীই ছিলেন না, তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এডভার্ড মঞ্চ তার প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন এবং বিখ্যাত স্থপতি ওয়াল্টার গ্রোপিয়াস তার বাড়ি নকশা করেছিলেন। তার বইটি প্রথমবারের মতো ইংরেজিতে প্রকাশিত হওয়ায় এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে গণিতের ভীতি এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, যেমনটা এক শতাব্দী আগে ছিল।
গণিতভীতির মূল কারণ হলো, গণিত কী, তা নিয়ে ভুল ধারণা। অনেকেই গণিতকে হিসাব করার সাথে মিলিয়ে ফেলে, কিন্তু দুটো এক নয়। যেমনভাবে সাহিত্য রচনা শুধুমাত্র বানান ও বিরামচিহ্নের সঠিকতা নয়, গণিতও শুধুমাত্র হিসাব করা নয়।
আয়রব্যাচের মতে, গণিত তিনটি জিনিস—একটি বিজ্ঞান, একটি ভাষা এবং একটি শিল্প। গণিত বিজ্ঞানে অনেক কাজে লাগে, কিন্তু শুধু এই ব্যবহারিক দিকগুলো শেখানো গণিতের আসল আনন্দ এবং সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়। গণিতের সৌন্দর্য রয়েছে এর দারুণভাবে চিন্তা করার ক্ষমতায়, যা আমাদের অসীমতা বুঝতে, শিল্প এবং প্রকৃতির সামঞ্জস্য খুঁজে বের করতে, এবং একটি বিমূর্ত জগতের ধারণাগুলির মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
গণিতের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্বজনীন সত্য—এটি যে কোনো ভাষার লোকের জন্যও প্রযোজ্য।
গণিতের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্বজনীন সত্য—এটি যে কোনো ভাষার লোকের জন্যও প্রযোজ্য। আয়রব্যাচ বলেছেন, “আপনি জার্মান উচ্চারণে জাপানি গণিত করতে পারবেন না,” অর্থাৎ গণিতের সত্য সর্বত্র একই থাকে। তবে আমার জন্য গণিতের সবচেয়ে প্রিয় দিক হলো এটি একটি শিল্প। গণিত এবং সাহিত্য উভয়ের মধ্যেই সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে কবিরা এবং গণিতবিদরা একে অপরের শৃঙ্খলাকে প্রশংসা করে।
গণিতের সৌন্দর্যকে যদি আমরা বুঝতে পারি, তাহলে এর প্রযুক্তিগত দিকগুলি আর ভয়ের কারণ হবে না। আজকের স্বাস্থ্যের পরামর্শদাতারা বলেন, ভয়ের এবং উত্তেজনার অনুভূতি শরীরে একইভাবে কাজ করে। তাই যদি আপনি গণিতের ভয়কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারেন, আপনি গণিতের সৌন্দর্য এবং জটিলতাকে উপভোগ করতে পারবেন।
আয়রব্যাচের লেখাগুলি আজও প্রাসঙ্গিক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে গণিতভীতি, যা এখন “গণিত উদ্বেগ” নামে পরিচিত, ২১শ শতাব্দীতেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
লেখক: সারাহ হার্ট, গণিতের অধ্যাপক এমিরিটা, বার্কবেক, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়।


Leave a Reply