প্রকাশিত: 12 September 2025
সারসংক্ষেপ
অমোচনীয় কালি (election/indelible ink) হলো ভোটের পর আঙুলে দেওয়া বিশেষ কালি, যার সক্রিয় উপাদান সাধারণত সিলভার নাইট্রেট। আলো/UV-এর সংস্পর্শে এটি ত্বক ও নখের কেরাটিনে ক্ষুদ্র ধাতব সিলভার কণা তৈরি করে গাঢ় দাগ তোলে—যা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী থাকে[1]। এ প্রযুক্তির দেশব্যাপী প্রথম বড় ব্যবহার হয় ভারতের ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে; রসায়ন উন্নয়নে যুক্ত ছিল NPL এবং দীর্ঘদিনের উৎপাদক MPVL[2][5]।
অমোচনীয় কালি আসলে কী
এটি সাধারণ পার্মানেন্ট মার্কারের কালি নয়; বরং সিলভার নাইট্রেট–ভিত্তিক এক বিশেষ দ্রবণ যা ত্বকের উপরিভাগে প্রবেশ করে। আলো/UV পড়লে রিডাকশনের মাধ্যমে ধাতব সিলভার (Ag⁰) কণা তৈরি হয়—এই কণাই বেগুনি/কালো দাগ হিসেবে দেখা যায়। তাই সাবান–পানি বা সাধারণ সলভেন্ট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তুলতে গেলে দাগ থেকে যায়, বিশেষত নখ/কিউটিকল এলাকায় বেশি দিন দৃশ্যমান থাকে[1].
ইতিহাস ও সরবরাহ
- দেশজুড়ে প্রথম বড় মাপে ব্যবহার: ভারত, ১৯৬২—রসায়ন উন্নয়নে National Physical Laboratory (NPL), উৎপাদনে Mysore Paints & Varnish Ltd. (MPVL)[2]।
- সাম্প্রতিক উদাহরণ: ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে MPVL রেকর্ডসংখ্যক ভায়াল সরবরাহ করেছে; রোদে দাগ বেগুনি হয় ও সাধারণত প্রায় দু’সপ্তাহ স্থায়ী থাকে—বলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters[5]।
ফর্মুলেশন (রসায়ন)
আন্তর্জাতিক অভ্যাসে ১০%, ১৪% বা ১৮% সিলভার নাইট্রেটের জলভিত্তিক দ্রবণ ব্যবহৃত হয়; কিছু ভ্যারিয়েন্টে দ্রুত শুকানোর জন্য অল্প অ্যালকোহলও থাকে। মার্কার পেন/ব্রাশ/ডিপ-বটল—বিভিন্ন প্যাকেজিং দেখা যায়[1]।
কীভাবে ও কোথায় প্রয়োগ করা হয়
নির্বাচনী নির্দেশিকায় সাধারণত নখের গোড়া/কিউটিকল বরাবর সোজা রেখায় কালি দিতে বলা হয়—কারণ এখানে দাগ দীর্ঘস্থায়ী। পরিষ্কার ও শুকনো আঙুলে দেওয়া এবং যথেষ্ট সময় শুকাতে দেওয়া জরুরি[3]।
কতদিন থাকে
স্থায়িত্ব নির্ভর করে—সিলভার নাইট্রেটের ঘনত্ব, কোথায় দেওয়া হলো, আলোতে এক্সপোজার এবং ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর। সাধারণত ত্বকে ৩–৭ দিন, আর নখ/কিউটিকলে ২–৪ সপ্তাহ পর্যন্ত দাগ দেখা যায়; নখ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায়[1][3]।
কেন আজও দরকার
সব দেশে সমানভাবে বায়োমেট্রিক/ডিজিটাল যাচাই নেই, বা ব্যাকআপ হিসেবে দৃশ্যমান চিহ্ন কাম্য। তাই অমোচনীয় কালি একটি সস্তা, দ্রুত, বিদ্যুৎ-নিরপেক্ষ স্তর—যা একাধিক ভোটদান ঠেকাতে সহায়ক। IFES–এর মতে, ৯০টিরও বেশি দেশ কখনো না কখনো এটি ব্যবহার করেছে; কোভিড-পর্বে স্যানিটাইজেশন–সংক্রান্ত নির্দেশনাও জারি হয়েছিল[4]।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
স্বল্প এলাকায় একবারের প্রয়োগ সাধারণত নিরাপদ। তবু ডার্মাটোলজি–সাহিত্যে ইরিট্যান্ট কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস–এর কেস নথিভুক্ত আছে—চোখ/মিউকোসা এড়ানো ও সঠিকভাবে শুকাতে দেওয়া উচিত। এই কেসগুলো ব্যবহারের পরিমাণের তুলনায় বিরল[6][7]।
সীমাবদ্ধতা (সংক্ষেপে)
- এটি একটি ডিটারেন্ট—একাই সব ঝুঁকি রোধের নিশ্চয়তা নয়; কার্যকারিতা নির্ভর করে ফর্মুলা, সঠিক প্রয়োগ ও প্রক্রিয়ার ওপর[3][4]।
- প্রক্রিয়া/ফর্মুলা দুর্বল হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে; তাই ক্রয়মানদণ্ড, ট্রেনিং ও স্টোরেজ (আলো থেকে সুরক্ষা) গুরুত্বপূর্ণ[1]।
রেফারেন্স
- Election ink — Wikipedia (Overview, Chemistry, History)
- CSIR–NPL (2024): From Chemistry to Democracy: The Story of India’s Indelible Ink (PDF)
- Election Commission of India (2021): Application of Indelible Ink on Electors’ Finger (PDF)
- IFES (2020): Indelible Ink in Elections — COVID-19 Guidance
- Reuters (2024): Purple fingers and indelible ink are the hallmarks of India’s elections
- Mishra et al. (2014): Indelible voters’ ink causing partial thickness burn — Case Report
- Nandwani et al. (2025): Indelible election ink — not so safe (Case report)


Leave a Reply