থোয়েটস গ্লেসিয়ারের বিপর্যয়: ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বন্যার আশঙ্কা

অ্যান্টার্কটিকার থোয়েটস গ্লেসিয়ার, যাকে “ডুমসডে গ্লেসিয়ার” বলা হয়, একটি বিশাল বরফের চাঁই, যার আকার ব্রিটেন বা ফ্লোরিডা-র মতো। বিজ্ঞানীরা গত ছয় বছর ধরে এটি নিয়ে গবেষণা করছেন এবং তারা দেখেছেন যে এটি বিপদে রয়েছে। যদি এই গ্লেসিয়ার ভেঙে পড়ে, তাহলে সমুদ্রের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে। এটি সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকার মানুষদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে।

এর সঙ্গে আরও একটি সমস্যা হলো, যদি থোয়েটস গ্লেসিয়ার গলে যায়, তাহলে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা-র আরও অনেক বরফ গলে যেতে পারে। এতে সমুদ্রের উচ্চতা ৩.৩ মিটার বাড়তে পারে, যা নিউ ইয়র্ক, কলকাতা এবং শাংহাই-এর মতো বড় শহরগুলোকে বন্যার ঝুঁকিতে ফেলবে।

ইন্টারন্যাশনাল থোয়েটস গ্লেসিয়ার কল্যাবোরেশন (ITGC) নামের একদল বিজ্ঞানী গত ছয় বছর ধরে বিমান, জাহাজ এবং পানির নিচের রোবট ব্যবহার করে গ্লেসিয়ারটি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন যে গ্লেসিয়ারটি সমুদ্রের নীচের উষ্ণ পানির কারণে নিচ থেকে গলছে। গ্লেসিয়ারটি এমন একটি পাথরের উপর রয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক নিচে। যখন গ্লেসিয়ারটি পিছু হটে, তখন আরও বরফ উষ্ণ পানির সংস্পর্শে আসে, যা গলনের গতি বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্লেসিয়ারটি হঠাৎ ভেঙে পড়বে না, কিন্তু এটি ধীরে ধীরে গলে যাবে। ২৩তম শতাব্দীর শেষের দিকে, এই গ্লেসিয়ার এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার অনেক বরফই হারিয়ে যেতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে।

অ্যালিসন জর্জ

Alison George একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞান লেখক এবং সম্পাদক, যিনি New Scientist-এ কাজ করেন। তার লেখার মূল বিষয় হলো জীববিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, প্রত্নতত্ত্ব এবং পরিবেশ। তিনি বিজ্ঞানকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেন। অ্যালিসন পূর্বে British Antarctic Survey-এ গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তার লেখা নিয়মিতভাবে মস্তিষ্ক, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং প্রাচীন মানবজাতি সম্পর্কে তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় প্রবন্ধ প্রকাশ করে।

তিনি ২০২৩ সালে British Science Journalist of the Year পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত তালিকায় ছিলেন।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *