জলবায়ু পরিবর্তন : চীনের কার্বন নিঃসরণ সম্ভবত অবশেষে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে

বিশ্বে কার্বন ডাই–অক্সাইড (carbon dioxide) নির্গমনের সবচেয়ে বড় দেশটি এখন একটি বড় পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

এ বছরই হয়তো এমন সময়, যখন চীনের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দীর্ঘমেয়াদে কমার পথে যাত্রা শুরু করবে। তবে এই মুহূর্তে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়—ফলাফল ঝুলে আছে।

চীন হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন ডাই–অক্সাইড (carbon dioxide) নির্গমনকারী দেশ। দেশটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের নির্গমন কমতে শুরু করবে। এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়, কারণ আগামী কয়েক দশকে জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৫ সালের প্রথম তিনটি প্রান্তিক শেষ হওয়ার পরও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, পুরো বছরে নির্গমন সামান্য বাড়বে নাকি সামান্য কমবে। ফিনল্যান্ডের সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (Centre for Research on Energy and Clean Air)–এর লরি মাইলিভির্তা (Lauri Myllyvirta) কার্বন ব্রিফ (Carbon Brief)–এর জন্য করা এক বিশ্লেষণে এ কথা জানান।

মার্চ ২০২৪ থেকে চীনের মোট নির্গমন প্রায় একই অবস্থায় আছে বা সামান্য কমছে। সৌর ও বায়ু শক্তি (solar and wind power) উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধি নির্গমন কমার প্রধান কারণ। তবে মাইলিভির্তা বলেন, অন্য কিছু খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির (fossil fuel) চাহিদা এখনো বেড়েছে।

“বিদ্যুৎ, সিমেন্ট ও ইস্পাত খাত থেকে নির্গমন কমেছে। কিন্তু রাসায়নিক শিল্পে আবারও কয়লা ও তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে,” তিনি বলেন।

জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৩২০ টেরাওয়াট–ঘণ্টা (terawatt hours—বিদ্যুতের পরিমাণ মাপার একক), যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৯ শতাংশ বেশি। তবে এই বাড়তি চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া অন্য উৎস থেকে। এই 

সময়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২৫০ টেরাওয়াট–ঘণ্টা, বায়ু বিদ্যুৎ ১০৫ টেরাওয়াট–ঘণ্টা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ ৩০ টেরাওয়াট–ঘণ্টা। সব মিলিয়ে এই তিনটি অ–জীবাশ্ম জ্বালানি উৎস থেকে মোট ৩৮৫ টেরাওয়াট–ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিত্র ২.৭ : চীনের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

মাইলিভির্তা (Myllyvirta) বলেন, চীনে সৌর বিদ্যুতের (solar power) বৃদ্ধি ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা যেভাবে বেড়েছে, তার মানে হলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০টি সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “বছরের প্রথম নয় মাসে সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা বেড়েছে ২৪০ গিগাওয়াট (gigawatts—বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা মাপার একক), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। মাত্র নয় মাসে যোগ হওয়া এই সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের মোট স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতার চেয়েও বেশি।”

মাইলিভির্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আরোপ করা বাণিজ্য শুল্ক (trade tariffs) এখন পর্যন্ত চীনের নির্গমনের ওপর কোনো স্পষ্ট প্রভাব ফেলেনি। তার মতে, বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবগুলো মূলত একে অপরকে সামলে নিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের (Asia Society Policy Institute, Washington DC) লি শুও (Li Shuo) বলেন, যদি চীনের নির্গমন সত্যিই কমতে শুরু করে, তাহলে বৈশ্বিক প্রবণতাও একই দিকে এগোবে বলে আশা করা যায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দেওয়া উচিত নয়। এই প্রবণতা নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক বছরের তথ্য প্রয়োজন।”

চিত্র ২.৮ : ২০২৫ সালে চীনের কার্বন নিঃসরণ কমার সম্ভাব্য প্রবণতা

তথ্যসূত্র:
James Woodford,
China's emissions may have finally peaked,
New Scientist, Volume 268, Issues 3573–3574,
2025, Page 26, ISSN 0262-4079,
https://doi.org/10.1016/S0262-4079(25)02024-X.
(https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S026240792502024X)
Abstract: The world's biggest emitter of carbon dioxide is on the cusp of a major turning point.