টি. রেক্স (Tyrannosaurus rex) ডাইনোসরের বাস্তবসম্মত চিত্র

জীবাশ্মবিদ্যা (Palaeontology) : টি. রেক্স (T rex) পুরোপুরি বড় হতে সময় নিত প্রায় ৪০ বছর

টাইরানোসরাস রেক্স (Tyrannosaurus rex)–এর জীবাশ্ম নিয়ে করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই ভয়ংকর ক্রিটেশাস যুগের শিকারি প্রাণীটি আসলে দেরিতে বড় হতো। গবেষণাটি বলছে, পূর্ণ বয়সে পৌঁছাতে এর সময় লাগত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর।

এই ফলাফলটি আরেকটি বিতর্ককে আরও জোরালো করছে। বিতর্কটি হলো—টি. রেক্স (T. rex) কি আসলে একাধিক প্রজাতি ছিল? আর যেসব ছোট আকারের জীবাশ্মকে আগে কিশোর বয়সের (juvenile) টি. রেক্স মনে করা হতো, সেগুলো কি সত্যি সত্যি “ন্যানোটাইরানোসরাস” (Nanotyrannus)—নামক আলাদা, তুলনামূলক ছোট একটি প্রজাতি?

দুই দশক আগে করা গবেষণাগুলোর ভিত্তিতে ধারণা ছিল, টি. রেক্স (T. rex) প্রায় ২০ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ওজন—প্রায় ৮ টন—এ পৌঁছে যেত। তখন আরও মনে করা হতো, এরা সম্ভবত ৩০ বছরের বেশি বাঁচত না।

ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি (Oklahoma State University)–এর গবেষক হোলি ব্যালার্ড (Holly Ballard) বলেন, “টি. রেক্স (T. rex)–এর বৃদ্ধি নিয়ে সর্বশেষ বড় গবেষণাগুলো হয়েছিল ২০০০–এর শুরুর দিকে। তখন বড়জোর সাতটি নমুনা (specimen)–এর ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করা হয়েছিল।”

এবার ব্যালার্ড ও তার দল ১৭টি ভিন্ন ভিন্ন টি. রেক্স (T. rex)–এর নমুনা থেকে তথ্য নিতে পেরেছেন। তারা মূলত উরুর হাড় (thigh bone) ও পায়ের সামনের হাড় (shin bone) পরীক্ষা করেছেন। এসব প্রাণীর বয়স ছিল নানা রকম—কিশোর বয়সের (juvenile) থেকে শুরু করে পুরোপুরি বড় প্রাপ্তবয়স্ক (adult) পর্যন্ত। ফলে টি. রেক্স–এর বৃদ্ধি নিয়ে এটি এখন পর্যন্ত সংগৃহীত সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডার।

গবেষকেরা হাড়ের ভেতরের টিস্যুর সূক্ষ্ম গঠন (bone tissue microstructure) পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে ছিল “বৃদ্ধির রিং” (growth rings)—যা গাছের কাণ্ডে যেমন প্রতি বছর একটি করে রিং তৈরি হয়, তেমনভাবেই হাড়েও তৈরি হয়। তবে হাড়ের ভেতরের মজ্জার ফাঁপা অংশ (bone marrow cavity) বড় হতে থাকলে শুরুর দিকের রিংগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিভিন্ন বয়সের ধাপ একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়—এমন যত বেশি সম্ভব নমুনা হাতে পাওয়া এই গবেষণার জন্য জরুরি ছিল।

“এই কারণেই আমাদের নমুনার সংখ্যা (sample size) এবং বয়সের বিস্তৃতি (age spread) এত গুরুত্বপূর্ণ। আর এখানেই আমাদের কাজটা আগের গবেষণাগুলো থেকে আলাদা,” বলেন ব্যালার্ড (Ballard)।

চিত্র ১.১: টাইরানোসরাস রেক্স (Tyrannosaurus rex) — ডাইনোসর যুগের এক বিশাল মাংসাশী প্রাণী।

এই বিশ্লেষণে দেখা যায়, টি. রেক্স (T. rex) আগের ধারণার চেয়ে ধীরে বড় হতো। শুধু তাই নয়, পরিবেশের অবস্থা অনুযায়ী এর বৃদ্ধির গতি একেক সময় একেক রকমও হতে পারত (PeerJ, doi.org/hbjx7f)।
(এই গবেষণাটি PeerJ নামের একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।)

তবে টি. রেক্স (T. rex) সর্বোচ্চ কত বছর বাঁচত—তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ প্রাণীগুলো পূর্ণ বয়সে (maturity) পৌঁছে গেলে তারা আর বৃদ্ধির রিং (growth rings) তৈরি করত না।

“আমরা বলতে পারি, সবচেয়ে সফল কিছু টি. রেক্স (T. rex) প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিল। তবে এদের সংখ্যা ছিল খুবই কম,” বলেন ব্যালার্ড। তিনি জানান, তাদের নমুনার মধ্যে মাত্র দুইটি জীবাশ্ম এমন ছিল, যেগুলো পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্ক আকারে পৌঁছাতে পেরেছিল।

ব্যালার্ড আরও বলেন, আরও দুটি নমুনা অন্যগুলোর তুলনায় অনেক ধীরে বড় হয়েছিল। এতে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে এগুলো হয়তো ভিন্ন কোনো প্রজাতির হতে পারে—যেমন ন্যানোটাইরানোসরাস (Nanotyrannus)—অথবা এগুলোকে একসাথে “টাইরানোসরাস গ্রুপ” (Tyrannosaurus complex)–এর অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

নর্থ ক্যারোলাইনা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল সায়েন্সেস (North Carolina Museum of Natural Sciences)–এর গবেষক লিন্ডসি জ্যানো (Lindsay Zanno) বলেন, এখন পর্যন্ত টাইরানোসরাসের বৃদ্ধি নিয়ে করা এটিই সবচেয়ে বিস্তারিত গবেষণা। তিনি জানান, গত বছর মন্টানা থেকে পাওয়া একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম নিয়ে করা তার গবেষণায় দেখা গেছে, সেটি ছিল একটি ছোট আকারের টাইরানোসরাস, যা প্রায় ২০ বছর বয়সেই পুরোপুরি বড় হয়ে গিয়েছিল। ওই প্রজাতিটির অস্থায়ীভাবে যার নাম দেওয়া হয়েছে ন্যানোটাইরানোসরাস ল্যানসেনসিস (Nanotyrannus lancensis)

“টাইরানোসরাসের জন্য এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য বৃদ্ধি–চিত্র (growth curve) অবশেষে হাতে পাওয়া সত্যিই খুব আশাব্যঞ্জক,” বলেন জ্যানো।

তথ্যসূত্র

তথ্যসূত্র
James Woodford,
T. rex took 40 years to become fully grown,
New Scientist,
Volume 269, Issue 3579,
2026,
Page 9,
ISSN 0262-4079,
https://doi.org/10.1016/S0262-4079(26)00112-0.
(https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0262407926001120)