মহাকাশ : চাহিদামতো সূর্যালোক দেবে স্যাটেলাইট

একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছর স্যাটেলাইট দিয়ে সূর্যালোক পৃথিবীতে প্রতিফলিত করার কাজ শুরু হবে। এতে অন্ধকার জায়গাগুলো সাময়িকভাবে আলোকিত করা যাবে—দৃষ্টিসীমা বাড়ানো বা শক্তি উৎপাদনের জন্য। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক পরিণতি নিয়ে সন্দিহান।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি রিফ্লেক্ট অরবিটাল (Reflect Orbital)—যাদের লক্ষ্য “চাহিদামতো সূর্যালোক” দেওয়া—এ বছরের শুরুতে তাদের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চায়। প্রাথমিক “ওয়ার্ল্ড ট্যুর”-এর অংশ হিসেবে তারা ১০টি স্থানে সূর্যালোক পাঠাবে। এরপর কোম্পানিটি হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। এসব স্যাটেলাইটে দশ মিটার জুড়ে আয়না থাকবে, যাতে আলো পৃথিবীতে প্রতিফলিত করা যায়—দূর-নিয়ন্ত্রিত কাজ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক অবকাঠামো, এবং শক্তি উৎপাদনের জন্য।

রিফ্লেক্ট অরবিটাল বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের স্যাটেলাইট কভারেজ এতটাই হবে যে তারা পৃথিবীর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতি বর্গমিটারে ২০০ ওয়াট সমতুল্য আলো পাঠাতে পারবে। এটি গোধূলি ও ভোরের সূর্যালোকের মাত্রার সমান। ফলে যেসব জায়গায় প্রাকৃতিক সূর্যালোক কম, সেখানেও নির্ভরযোগ্যভাবে শক্তি উৎপাদন করা যাবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC)-এ জমা দেওয়া কোম্পানিটির প্রথম স্যাটেলাইটের নথিতে যে স্পেসিফিকেশন (specifications) আছে, তাতে দেখা যায়—পৃথিবীতে যে “কার্যকর” আলো (useful light) প্রতিফলিত হবে, তা এর চেয়ে অনেক কম হবে।

অ্যারিজোনার টাকসন (Tucson), শহরভিত্তিক ডার্ক স্কাই কনসাল্টিং (Dark Sky Consulting)-এর জন ব্যারেন্টাইন (John Barentine) এবং আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (American Astronomical Society)-এর কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী (astronomers) ওই FCC নথি ব্যবহার করে হিসাব করেছেন—এই স্যাটেলাইট থেকে পৃথিবীর সৌর প্যানেলগুলো (solar panels) আসলে কতটা শক্তি পেতে পারে।

তিনি বলেন, “একটি মাত্র প্রতিফলকের ক্ষেত্রে, ভূপৃষ্ঠে যে পরিমাণ আলো পৌঁছাবে, তা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। ব্যারেন্টাইনের মতে, আলোটির মাত্রা হবে পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চার গুণের সমান। কিন্তু বড় একটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, এতে খুব বেশি বিদ্যুৎ (electricity) উৎপাদন হবে না। এর চেয়ে বেশি আলো তৈরি করতে হলে মোট মিলিয়ে হাজার হাজার প্রতিফলক (reflectors) যুক্ত স্যাটেলাইট লাগবে। আর এমন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ (launch) করা হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পাশাপাশি এগুলোকে দলবদ্ধভাবে ঠিকঠাক বিন্যাসে (formation) উড়ানোও হবে বেশ জটিল।

চিত্র ৩.৫ : শিল্পীর কল্পনায় সূর্যালোক প্রতিফলনকারী স্যাটেলাইট ব্যবস্থা

তবে এই স্যাটেলাইটগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্যারেন্টাইন বলেন, আয়নাগুলোর অবস্থান বদলানোর সময় সূর্যালোকের ক্ষণস্থায়ী ঝলক দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলে আলো কিছুটা ছড়িয়ে পড়া এবং ক্ষয় হয়ে যাওয়া অনিবার্য। এতে আলো অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য জায়গার দিকেও যেতে পারে। বিশেষ করে, স্যাটেলাইটের প্রতিফলকগুলো যদি অতি ক্ষুদ্র উল্কাখণ্ডের (micrometeorites) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সেগুলো আর নিখুঁত প্রতিফলক থাকবে না।

ব্যারেন্টাইন বলেন, এসব সমস্যা কমানোর সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করতে রিফ্লেক্ট অরবিটাল (Reflect Orbital) বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে নিউ সায়েন্টিস্ট (New Scientist) ছাপা হওয়ার আগে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধে রিফ্লেক্ট অরবিটাল কোনো জবাব দেয়নি।

তথ্যসূত্র:
Alex Wilkins,
Satellites to provide sunshine on demand,
New Scientist,
Volume 269, Issue 3576,
2026,
Page 11,
ISSN 0262-4079,
https://doi.org/10.1016/S0262-4079(26)00008-4.
(https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0262407926000084)